সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন

আমতলীতে বস্তাবন্দি মরদেহ সনাক্ত; স্কুল ছাত্র হত্যার বিচার দাবীতে বিক্ষোভ ও মা’ন’ব’বন্ধ’ন
আমতলী প্রতিনিধিঃ আমতলীর পায়রা নদী থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ সনাক্ত করা হয়েছে। নিহত জাবেদ ইমন আমতলী একে সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র। হত্যাকন্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবীতে রবিবার আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কের একে স্কুল পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করা হয়েছে। মানববন্ধনে ইমনের সহপাঠীসহ বিদ্যালয়ের সহস্রাধীক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
জানাগেছে, উপজেলার মধ্য আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের আউয়াল প্যাদার ছোট ছেলে জাবেদ ইমন আমতলী একে সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেনীর ছাত্র। গত ২৬ জুলাই বিকেলে ইমন আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারে যান। ওই বাজারের ব্যবসায়ী ইমরান তালুকদার (হৃদয়) স্কুল ছাত্র ইমনকে ডেকে তার দোকানে নিয়ে যান। ওই দোকানে ইমনের বন্ধু সাজিদকে রেখে ইমরান স্কুল ছাত্র ইমনকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। ওইদিন রাত নয়টার দিকে পরিবারের লোকজন ইমনের খোজাখুজি করলে ইমন ব্যবসায়ী ইমরান তালুকদারের সাথে আছে বলে জানান। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার আর কোন যোগাযোগ নেই। ওইদিন রাতে ইমরান তালুকদার ইমনের বাড়ীতে এসে তার মা ফাতেমা বেগমের কাছে ইমনের কাছে তিন হাজার টাকা পাবে বলে দাবী করেন। পরের দিন অর্থ্যাৎ ২৭ জুলাই আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন বহিস্কৃত ছাত্রদল সদস্য সচিব মাদক বিক্রেতা সগির বিশ্বাস ইমনের বাবার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবী করেন এবং ইমন বালিয়াতলী আছে বলে তাকে জানান। সগির তিন দিন নানাভাবে ইমনের পরিবারকে হয়রানী করেছে বলে অভিযোগ ইমনের বাবার। এ ঘটনায় ইমনের বাবা আউয়াল প্যাদা ২৮ জুলাই আমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় মধ্য আড়পাঙ্গাশিয়া পায়রা নদীর পাড়ে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী থানা পুলিশ। কিন্তু মরদেহ পচে যাওয়ায় সনাক্ত করতে পারেনি পরিবার। ৩০ জুলাই পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়। ওই দিন ময়না তদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহ বরগুনায় দাফন করা হয়। ৩১ জুলাই আমতলী থানা পুলিশ নিহত স্কুল ছাত্রের বাবা আউয়াল প্যাদাকে থানায় ডেকে আনে। পরে বস্তাবন্দি মরদেহের পরিহিত পোশাক দেখায়। পরে তিনি তার ছেলে জাবেদ ইমনের মরদেহ বলে সনাক্ত করেন। আমতলী থানা পুলিশ নিহত স্কুল ছাত্রের হত্যার রহস্য উদঘাটনে নিদ্রা সকিনা নৌ-পুলিশের ইন্সেপেক্টর সাগর ভন্দ্রকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। স্কুল ছাত্র ইমনের মরদেহ সনাক্তের পরপরই সগির বিশ্বাস ও ব্যবসায়ী ইমরান তালুকদার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। স্কুল ছাত্র ইমনের হত্যা কান্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবীতে রবিবার বেলা ১১ টার দিকে আমতলী-কুয়াকাটা সড়কের একে স্কুল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করা হয়েছে। মানববন্ধনে ইমনের সহপাঠীসহ ওই বিদ্যালয়ের সহস্রাধীক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
নিহতের বাবা আউয়াল প্যাদা কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের কঠোর শাস্তি দাবী করছি। তিনি আরো বলেন, ইমরান তালুকদার আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গেছে। তারপর থেকে আমার ছেলে নিখোঁজ। সগির বিশ্বাস নামের এক ছেলে আমার ছেলের সন্ধান দেয়ার কথা বলে আমার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবী করেছে কিন্তু আমার ছেলের সঠিক সন্ধান দেয়নি। উল্টো আমাকেসহ আমার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানী করেছে।
তালতলী নিদ্রা সকিনা নৌ-পুলিশের ইন্সেপেক্টর সাগর ভদ্র বলেন, স্কুল ছাত্র ইমনের হত্যা কান্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করি অল্প দিনের মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করা যাবে।
আমতলী থানার ওসি মোঃ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, স্কুল ছাত্র ইমনের হত্যা রহস্য উদঘাটনে তালতলী নৌ-পুলিশের ইন্সেপেক্টরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনীগত ব্যবস্থা নিবেন।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply